Summary
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজ করে, যা সমাজ ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনকালে মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে খাদ্য সংগ্রহ ও উৎপাদন শুরু করে। জ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজ পদার্থ উত্তোলন করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ভূমিকা:
- সম্পদের সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত, এবং জনসংখ্যা বেশি, যা পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সম্পদের ব্যবহার প্রয়োজনীয়।
- কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি: উর্বর মাটির সদ্ব্যবহার এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
- সুষম খাদ্য: প্রাণিজ সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে সুষম খাদ্যের অভাব পূরণ হবে এবং খামারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
- সেচ সুবিধা: নদী-খাল-বিলের পানি দিয়ে কৃষি সেচ দেওয়া হলে উৎপাদন বৃদ্ধি হবে।
- শিল্প বিকাশ: গ্যাস, কয়লা, এবং চুনাপাথর ব্যবহার করে শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
- বনজ সম্পদ: এটি বাড়িঘর নির্মাণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ, বিধায় পরিকল্পিত বৃদ্ধি প্রয়োজন।
সঠিকভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও শিল্প উন্নতি ঘটিয়ে, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বেঁচে থাকার জন্য মানুষ নানা রকম কাজ করে। এসব মানুষের অর্থনৈতিক কাজ। এই অর্থনৈতিক কাজের উপর ভিত্তি করেই সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠে।
প্রাচীনকালে মানুষ বন থেকে ফলমূল সংগ্রহ করত এবং পশু শিকার করে তার মাংস খেতো। তারপর তারা ফসল ফলাতে শেখে এবং কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করে। খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগকে কেন্দ্র করেই মানুষের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে মধ্যযুগ পর্যন্ত মানুষ যেসব সম্পদ ব্যবহার করেছে তার সবটাই ছিল প্রাকৃতিক । প্রাকৃতিক সম্পদকে রূপান্তর করে মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করেছে। আধুনিককালে মানুষ কয়লা, লোহা, পাথর, স্বর্ণ, রৌপ্য, গ্যাস ইত্যাদি খনিজ পদার্থ উত্তোলন করতে শিখেছে। তারা প্রকৃতির সম্পদকে আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করছে। এর জন্য তৈরি করছে অনেক আধুনিক যন্ত্র। এভাবেই মানুষ নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে দ্রুত উন্নত করেছে।
বাংলাদেশের উন্নতিতে প্রাকৃতিক সম্পদের ভূমিকা : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত। অন্যদিকে সম্পদের তুলনায় দেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এজন্য যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে হবে।
উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি : আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান। এদেশের মাটি খুব উর্বর। এই উর্বর মাটি যথাযথভাবে ব্যবহার করলে কৃষি উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। অন্যদিকে শিল্পায়নও করতে হবে পরিকল্পিতভাবে। কৃষিকাজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে গ্রামে। ফলে কাজের জন্য তখন আর গাঁয়ের লোক শহরের দিকে ছুটবে না ।
সুষম খাদ্যের অভাব পূরণ : বর্তমানে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও মৎস্য এই তিন ধরনের প্রাণিজ সম্পদেরই ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে সুষম খাদ্যের অভাব পূরণ হচ্ছে। অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ খামার সৃষ্টির ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে ।
সেচ সুবিধা প্রদান : নদী-খাল-বিল হাওরের পানি দিয়ে আমরা কৃষি জমিতে সেচ দিতে পারি। ফলে শুকনো মৌসুমেও কৃষি উৎপাদন অনেক বাড়ানো যায় ।
শিল্পের উন্নয়ন ও ব্যবহার প্রসার : দেশের গ্যাস, কয়লা ও চুনাপাথর আমাদের জীবনযাত্রায় কাজে লাগছে। এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে এবং শিল্পের প্রসার ঘটছে।
বনজ সম্পদের ভূমিকা : বাড়িঘর তৈরি ও আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য আমরা বনজ সম্পদ ব্যবহার
করি। আবার প্রকৃতিতে তাপমাত্রা কমানোর জন্য বনজ সম্পদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। এজন্য পরিকল্পিতভাবে আমাদের বনজ সম্পদ আরও বাড়াতে হবে।
দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করলে দেশের কৃষি-শিল্প যেমন উন্নত হবে তেমনি মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
কাজ : বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ কীভাবে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে?
Read more